রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩

আভ্যন্তরীন না বৈদেশিক কোন কারণটিকে তুমি হরপ্পা সভ্যতার পতনের জন্য অধিক | দায়ী বলে মনে কর? Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

আভ্যন্তরীন না বৈদেশিক কোন কারণটিকে তুমি হরপ্পা সভ্যতার পতনের জন্য অধিক | দায়ী বলে মনে কর? 


উত্তর দীর্ঘ ৬০০ বছর উজ্জ্বল উপস্থিতির পর আনুমানিক ১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হরপ্পা সভ্যতার অবলুপ্তি ঘটেছিল। এই সভ্যতার ধ্বংসের কারণ সম্পর্কে পুরাতত্ত্ববিদ, ভূগোলবিদ্, আবহাওয়াবিদ্ ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে।


অভ্যন্তরীণ অবক্ষয় : দীর্ঘদিন ধরে হরপ্পার বিভিন্ন অঞ্চলে ঐতিহাসিকগণ যে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তার ভিত্তিতে বলা যায়, এই ক্রমিক অবক্ষয় থেকেই ধীরে ধীরে হরপ্পার অবক্ষয় ঘটে। হরপ্পা মহেঞ্জোদাড়ো সহ অন্যান্য প্রত্নকেন্দ্রের সর্ব্বোচ্চ স্তরে এর চিহ্ন বর্তমান। মহেঞ্জোদাড়োয় একসময় ঘরের আয়তন যা ছিল তা শেষের পর্যায়ে অনেক ক্ষুদ্রতর রূপ নেয়। প্রারম্ভিক স্তরগুলিতে পরিকল্পনা মাফিক রাস্তা ও বাড়িঘর তৈরী শেষের পর্যায়ে পরিলক্ষিত হয় না। মৃৎশিল্পীরাও আগের মত দক্ষতা দেখাতে পারেন নি। এগুলি সবই অভ্যন্তরীণ অবক্ষয়ের চিত্র স্পষ্ট করে তোলে।কৃষির পশ্চাৎপদতা : আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন, যেহেতু হরপ্পার মানুষেরা গাঙ্গেয় উপত্যকায় কৃষি অর্থনীতির সম্প্রসারণ ঘটাতে পারেননি, তাই তাঁদের কৃষি অর্থনীতিতে জড়ত্ব লক্ষ্য করা যায়। সম্ভবতঃ এর প্রধান কারণ ছিল লৌহ ও লৌহজাত উপকরণের সঙ্গে হররীয়দের সংযোগের অভাব। তাছাড়া মেসোপটেমিয়ার মত তারা খাল কেটে জলসেচের পরিবর্তে নদীর জল বেঁধে জমিতে সেচের যে প্রথা অনুসরণ করেছিল শেষের দিকে তা ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়।


বাণিজ্যের অবক্ষয় : হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলির সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক লেনদেন দীর্ঘকাল চলছিল এই সভ্যতা ধ্বংসের আনুমানিক ১৫০ বছরের আগে তাতে ভঁাঁটা পড়তে থাকে। বাণিজ্যিক লেনদেন হ্রাস পেলে অর্থনৈতিক জীবনের গুরুত্ব নেমে আসে।


রক্ষণশীল মানসিকতা : হরপ্পা সভ্যতার অবক্ষয়ের পিছনে বড় কারণ ছিল তাঁদের রক্ষণশীল মানসিকতা। তারা কোনো উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিতে পারেনি। মেসোপটেমিয়ানদের সাথে সাথে যোগাযোগ সত্ত্বেও তারা খালের দ্বারা জলসেচ করেনি। এমনকি মহেঞ্জোদাড়োতে ৯টি স্তরে এক ছকে বার বার নগর নির্মিত হয়, যদিও শহরটি ছিল বন্যা প্রবণ।


হরপ্পা সভ্যতার পতনের পিছনে অভ্যন্তরীণ অবক্ষয়, কৃষির পশ্চাৎপদতা, বাণিজ্যিক অবক্ষয়, রক্ষণশীল মানসিকতা প্রভৃতি দীর্ঘদিন করে সভ্যতার অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকে দুর্বল করে তুলেছিল। বৈদেশিক আক্রমণ অথবা প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় এই পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।


হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের পিছনে বৈদেশিক আক্রমণের তত্ত্বটি আলোচনা করছেন গর্ডন চাইল্ড, মার্টিমার হুইলার প্রমুখ ঐতিহাসিকগণ। এই তত্ত্বের সমর্থনে যুক্তি হল – ১. মহেঞ্জোদাড়োর রাস্তার উপর বহু কবরহীন কঙ্কাল স্তূপীকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।


২. হরপ্পায় এমন কিছু মাথার খুলি আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলিতে ভারী কোনো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এগুলি হিংস্মাত্মক ঘটনার পরিচয় বহন করে এবং বলা হয় যে, বহিরাগত জাতি মূলতঃ আর্যদের আক্রমণে এই সভ্যতা ধ্বংস হয়। আর্যদের দেবতা ইন্দ্র (পুরন্দর) কর্তৃক শত্রুদের ‘পুর’ বা নগরগুলির ধ্বংসের বিষয়টিকেও এই যুক্তির সমর্থনে পেশ করা হয়। এছাড়াও ঋকবেদের বর্ণিত 'হরিগুপির যুদ্ধ'-কে অনেকে হরপ্পার সঙ্গে আর্যদের যুদ্ধ বলে মনে করেন। উপরোক্ত তত্ত্বকে একেবারে অভ্রান্ত বলে মেনে নিলে ভুল হয়। এই তত্ত্বের প্রথম সীমাবদ্ধতা


এই যে হরপ্পা সভ্যতার শেষপর্বে আবিষ্কৃত কতকগুলি মাথার খুলি বা ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কঙ্কাল থেকে কখনোই বলা যায় না যে বৈদেশিক আক্রমণকারীদের দ্বারাই হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংস হয় এবং এই আক্রমণকারীরা ছিলেন আর্য। বন্যা ঃ হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের পিছনে বিধ্বংসী বন্যা এক বড় ভূমিকা পালন করেছিল বলে বেশ কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এস. আর. সাহানী, আর্নেস্ট ম্যাকে, এস. আর. রাও, রাইট্স প্রমুখ।


পরিবেশজনিত কারণ : আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের কারণ। বলে অনেকে মনে করেন। সিন্ধু, বেলুচিস্তান প্রভৃতি অঞ্চলের আবহাওয়া অত্যন্ত রুক্ষ হয়ে পড়ায় তা মনুষ্য বাসের পক্ষে অনুপযুক্ত হয়ে ওঠে। কারণ পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়।এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পিছনে যুক্তি দেখানো হয় যে, হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলিতে অট্টালিকা তৈরীতে পোড়া ইটের বাড়ি তৈরী করতে জ্বালানি হিসেবে কাঠের যথেষ্ট ব্যবহার বনাঞ্চল ধ্বংস করে। এর ফলে বিভিন্ন শহর বিশেষ করে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো ধীরে ধীরে শুদ্ধ ও মরু অঞ্চলে পরিরত হয়। কিন্তু আবহাওয়াতত্ত্ব, উদ্ভিদতত্ত্ব ও প্রাণীতত্ত্ববিদ্রা গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, সিন্ধু উপত্যকায় এই ধরণের ঘটনার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। ঐ একই এলাকায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আবির্ভাব ঘটেছিল এবং মহেঞ্জোদাড়ো নগর ধ্বংস হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন। মহেঞ্জোদাড়োর ক্ষেত্রে এই বক্তব্য যদি সত্যিও হয় অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে তা ঘটে নি।


সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসের পিছনে যে কোনো বিষয়কেই দায়ী করা হোক না কেন অভ্যন্তরীণ অবক্ষয় এর পতনের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। বৈদেশিক আক্রমণ অথবা পরিবেশগত কারণ অথবা বন্যা কোনো কোনো অঞ্চলে শেষ পর্যায়ে ধ্বংসের কারণ হয়েছিল বলে মনে করা হয়।


আর্যরাই সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য দায়ী — এই ধারণার পিছনে যুক্তি কি?


ত্তর মাটিমার হুইলার, এইচ. জি. ওয়েলস প্রমুখ বলেছেন, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত আর্যদের


ক্রমাগত আক্রমণের ফলে হরপ্পা সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়েছে। এঁরা দেখিয়েছেন


১. সিন্ধু সভ্যতার বিনাশ ও আর্যদের ভারতে আগমন প্রায় সমসাময়িক। ২. সিন্ধু উপত্যকায় খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত কঙ্কাল ও মাথার খুলিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।


৩. ঝুকরে প্রাপ্ত কুঠারের চিত্র বহিরাগত আর্যদের ন্যায় ছিল।


৪. ঋকবেদ বর্ণিত 'হরিওপির যুদ্ধ'কে অনেকে আর্যদের সঙ্গে হরপ্পার যুদ্ধ বলে মনে করেন। ৫. ঋকবেদের দেবতা ইন্দ্রের অপর নাম ‘পুরন্দর' বা 'নগর ধ্বংসকারী'। অনুমান করা হয়, তিনি সিন্ধুর নগর সভ্যতাকে ধ্বংস করেছিলেন। এইসব যুক্তির ভিত্তিতে আর্যদের সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসকারী বলে মনে করা হলেও ঐতিহাসিক ব্যাসাম তা মানতে রাজী নন।


প্রশ্ন মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন কোনটি ?


উত্তর মহেঞ্জোদাড়ো নগরটির উন্নত নগর পরিকল্পনা থেকেও সবচেয়ে যে দিকটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হল বৃহৎ স্নানাগার। এটি আয়তনে ১১৪.৮৮ মিঃ x ৭০.১ মিঃ x ২.৪৩ মিঃ। এছাড়াও স্নানাগারের পাশে একটি শস্যাগার এবং সিটাডেল এলাকায় একটি প্রাসাদ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।


প্রশ্ন কোন সূত্র থেকে সিন্ধু সভ্যতার পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচয় পাওয়া যায়?


উত্তর) মহেঞ্জোদাড়োতে প্রাপ্ত কাপড়ের মণ্ড থেকে বোঝা যায় সিন্ধুবাসীরা তাঁত ও রেশম জাত বস্ত্র ব্যবহার করত। এছাড়াও প্রাপ্ত মূর্তিগুলির স্বাক্ষ্য এবং নর্তকী মূর্তি থেকে সিন্ধুবাসীর কেশবিন্যাস, অলঙ্কারের ব্যবহার প্রভৃতি জানা যায়। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

SEMESTER 1

 দেওয়াল পত্রিকা পদধ্বনির ২য় সংখ্যা উদ্বোধন হল ১২ই ডিসেম্বর, ২০২৪। এবারের দেওয়াল পত্রিকার বিষয়বস্তু ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালী। এবারের সম্...