শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

হরপ্পা সভ্যতার পতনে পরিবেশগত বিপর্যয় কতদূর দায়ী ছিল? Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 প্রশ্ন হরপ্পা সভ্যতার পতনে পরিবেশগত বিপর্যয় কতদূর দায়ী ছিল? [ উত্তর হরপ্পা সভ্যতার পতনের সম্ভাব্য কারণগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল। (ক) প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় (বন্যা, ভূমিকম্প, সিন্ধুনদের গতি পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা এবং মরুভূমির সম্প্রসারণ) (খ) বৈদেশিক আক্রমণ (অনেকের মতে আর্য জাতির আক্রমণ) ও গৃহযুদ্ধকে। তবে সাম্প্রতিকালে সিন্ধুবাসীদের রক্ষণশীল চরিত্র (উন্নত জলসেচের প্রতি অনাগ্রহ, নগর পরিকল্পনায় বৈচিত্র্যের অভাব, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি আগ্রহ হ্রাস) এবং কৃষি অর্থনীতির বিপর্যয়কে সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য দায়ী বলে চিহ্নিত করা হয়।


পরিবেশগত বিপর্যয় : হরপ্পা সভ্যতার অবক্ষয়ের জন্য পরিবেশগত বিপর্যয়ের উপর প্রথম প্রণালীবদ্ধ যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন ওয়াল্টার ফেয়ারসার্ভিস। তার মতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরের আয়তন বৃদ্ধি এবং এর ফলে জমির পরিমাণ হ্রাস ও অরণ্য অঞ্চলের সংকোচন হরপ্পা অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্ট করে। জমির উর্ব্বরতা ক্রমশ হ্রাস পায়। অরণ্যের অবলুপ্তির ফলে বন্যা আর ক্ষরার ঘন ঘন আবির্ভাব ঘটতে থাকে। হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো ইত্যাদি নগর ত্যাগ করে গুজরাট ও পূর্বভারতের দিকে নাগরিকদের অভিপ্রয়াণ শুরু হয়। নিকটবর্তী অধিবাসীদের হানাদারি ও লুঠতরাজের ফলে হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলি দ্রুত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।


ফেয়ারসার্ভিসের তত্ত্বের সঙ্গে সব বিশেষজ্ঞ একমত হতে না পারলেও তার গবেষণা একটি নমুনা গবেষণা হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ফেয়ারসার্ভিস মহেঞ্জোদাড়োর চতুপার্শ্বস্থ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের একটা জরিপ করেছেন। এই সম্পদগুলির মধ্যে আছে মাটি, অরণ্য ও চারণভূমি। সেইসঙ্গে আছে নগরীর নিরূপিত জনসমষ্টির প্রয়োজনীয় খাদ্যের একটা হিসাব। নিরূপিত খাদ্য চাহিদার নিরিখে মহেঞ্জোদাড়োর চারপাশের এলাকার যেকোনো একটি বছরে কত হেক্টরে জমিতে শস্য কত উৎপাদিত হত তার হিসাব ফেয়ারসার্ভিস করেছেন। সেই একই সূত্র ধরে তিনি ভূকর্ষণের জন্য কতগুলি গবাদি পশু প্রয়োজন তার সংখ্যা এবং তার নিরিখেপুষ্ট হতে পারে না। এদের দরকার স্বাধীন বিচরণক্ষেত্র। তিনি সিদ্ধান্ত পৌঁছেছেন, চারণভূমিতে


পশুদের স্বাধীন বিচরণ সর্বদাই একটি অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিদের 'চরম হত্যালীলা'র কারণ। ওয়াল্টার ফেয়ারসার্ভিসের গবেষণা থেকে যে বিশ্লেষণ বেরিয়ে আসে তা হল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, মনুষ্যসৃষ্ট কোনো বিপর্যয়ের ফলেই হরলীয় নগরগুলি ধ্বংস হয়। সিন্ধুর অধিবাসীদের বেপরোয়া ভূমি কর্ষণ, ক্রমবর্ধিত চারণক্ষেত্রের ব্যবহার, অরণ্যাদি ধ্বংস করার ফলে জনগোষ্ঠীকে, বিশেষতঃ নগরের অধিবাসীদের জীবনযাপনের উপকরণ সরবরাহে উল্লিখিত অঞ্চলের মৃত্তিকার অক্ষমতা ইত্যাদি কারণে হরপ্পীয় নগরগুলি ধ্বংস হয়।


ফেয়ারসার্ভিসের গবেষণার মূল্যায়ন করতে গিয়ে শিরিণ রত্নাগর মন্তব্য করেছেন, জনসংখ্যা এবং গবাদি পশুর যে হিসাব ফেয়ারসার্ভিস দিয়েছেন তাতে যদি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় “তবু পরিবেশ নির্ভর ইতিহাসের এই যে মূল্যবান নীতিটি ফেয়ারসার্ভিস প্রতিষ্ঠিত করলেন, তাতে আমাদের অনুসন্ধান আকস্মিক এবং প্রাকৃতিক এই দুর্ঘটনার ধারণা থেকে অন্য কোনো অভিমুখে পরিচালিত হতে পারল।” সম্ভবত মহেঞ্জোদাড়োর কয়েকটি বিশেষ অংশ অতি জনবহুল ছিল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিদ নিঃশেষিত হয়ে যায়।


ঐতিহাসিক ইরফান হাবিব ফেয়ারসার্ভিসের গবেষণার সঙ্গে একমত নন। তিনি লিখেছেন, সিন্ধু লোকালয়ে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ছ'জনের বেশি ঘন ছিল না। এত স্বল্প ঘনত্বের কোনো লোকালয় তার অপর্যাপ্ত জমিকে এত শীঘ্র অনুর্বর করে তুলতে পারে না। তাছাড়া সেই কালের মানুষ ঝুম পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করত। সুতরাং একজায়গায় মাটি অনুর্বর হয়ে পড়লে অন্য জায়গায় তারা সরে যেতে পারতো।


(৫ নং দিলে উপরের উত্তর। ১০ নং দিলে নীচের প্রশ্নটির উত্তর লিখতে হবে। শুধু ‘পরিবেশজনিত কারণ’ এর পরিবর্তে ‘পরিবেশগত বিপর্যয় ঢোকাতে হবে। )


হরপ্পা সভ্যতার নাগরিক বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা কর Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 হরপ্পা সভ্যতার নাগরিক বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা কর


উত্তর প্রাচীন বিশ্বের সভ্যতাগুলির মধ্যে হরপ্পা সভ্যতা (সিন্ধু সভ্যতা) তার নাগরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছে। লিখিত উপাদানের অভাবে মূলতঃ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের উপর নির্ভর করে হরপ্পা সভ্যতার উপর আলোকপাত করতে হয়। খননকার্যের ফলে যে নিদর্শনগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে তা থেকে প্রমাণিত হয় হরপ্পা সভ্যতা ছিল একটি উন্নত নাগরিক সভ্যতা।


(ক) নগর পরিকল্পনা ঃ হরপ্পা নগরের বিন্যাসের উপরে হরপ্পা সভ্যতার নগরকেন্দ্রিক ভিত্তি রচিত হয়েছে। হরপ্পা সভ্যতার অধিকাংশ নগরে মূলত হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োর নগর পরিকল্পনার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। হুইলার মনে করেন যে, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োতে 'নগর পরিকল্পনা বিদ্যা' সংগঠকদের যথেষ্ট করায়ত্ত্ব ছিল।


১. রাস্তাঘাট ঃ হরপ্পা সভ্যতার রাজপথ ছিল সোজা, প্রশস্ত এবং পরিচ্ছন্ন। প্রতিটি শহর তার চারিেিদক প্রশস্ত রাজপথ দ্বারা (পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ) কয়েকটি অংশে বিভক্ত ছিল। প্রত্যেকটি রাজপথ আবার গলিপথের সঙ্গে যুক্ত ছিল। রাস্তার দুধারে বাঁধানো ঢাকনা দেওয়া ছিল। বাঁধানো ফুটপাথ ও ল্যাম্পপোষ্টের অস্তিত্বও আবিষ্কৃত হয়েছে।


২. গৃহ : পোড়ামাটির ইট দ্বারা তৈরী গৃহগুলি অধিকাংশই ছিল দ্বিতল ও প্রাচীন বেষ্টিত। প্রত্যেক ঘরে কুয়ো, উঠোন এবং নর্দমা ছিল। রাস্তার দিকে কোনো জানালা ছিল না। ঘরের একেবারে উপরে ছিল ভেন্টিলেটার। অধিকাংশ বাড়ীর একই ছক, ইটের সমান মাপ, ধনী ও দরিদ্রের বাড়ীর অবস্থানের ফারাক প্রভৃতি দেখে অধ্যাপক গর্ডন চাইল্ড বলেছেন সম্ভবতঃ হরপ্পার পৌর শাসকরা গৃহ নির্মাণ সংক্রান্ত আইন মেনে চলতেন।


৩. সিটাডেল : প্রত্যেক শহরে দুটি অংশ থাকত। উঁচু এলাকাকে বলা হত সিটাডেল। উঁচু সিটাডেল এলাকায় শস্যাগার, গণস্নানাগার এবং ধনী ও শাসকদের বাসগৃহ ছিল। সাধারণ মানুষ ও কারিগররা সিটাডেল এলাকার বাইরে বাস করত।


(খ) নগর স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা ঃ হরপ্পা সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল জনস্বাস্থ্যর প্রতি নগর নির্মাতাদের বিশেষ দৃষ্টি। এর নিদর্শন ছিল—


১. উন্নত পয়ঃপ্রণালী ঃ হরপ্পার নগরগুলিতে বাড়ির ভিতর থেকে একদম শহরের বাইরে পর্যন্ত জল বার করার জন্য ছোটো ছোটো নালা -বড় নদমা লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি নালা আচ্ছাদিত27


ছিল। ঐতিহাসিক ব্যাসাম বলেছেন, “বিশ্বের আর কোনো দেশে এই রকম উন্নত জলনিকাশী ব্যবস্থার নিদর্শন পাওয়া যায়নি।”


২. ডাস্টবিন : প্রত্যেক শহরে গৃহের বাইরে ডাস্টবিন ছিল যা নিয়মিত পরিস্কার করা হত। ৩. ম্যানহোল ও সোকপিট ব্যবহার : স্বাস্থ্যবিধির এক অনন্য নিজর ছিল নগরগুলিতে ম্যানহোল ও সোকপিটের ব্যবহার।


(গ) আধুনিক বৈশিষ্ট্য ঃ হরপ্পা সভ্যতার আধুনিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। (১) দুর্গ


(২) শস্যাগার (৩) ব্যবহৃত পণ্যের নিদর্শনে।


১. দুর্গ ঃ হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োতে খননকার্য চালিয়ে মার্টিমার হুইলার নগর রক্ষায় প্রাচীরের ব্যবহারের কথা বলেছেন। দুর্গের ভিতরে ছিল শাসক শ্রেণীর বাসস্থান।


২. শস্যাগার : কালিবঙ্গান ও হরপ্পা নগরীতে দুটি বৃহৎ শস্যাগার আবিষ্কৃত হয়েছে। এর আয়তন ছিল ৬০৯ বর্গফুট। প্রত্যেকে শস্যাগারে দুটি সারি এবং প্রত্যেক সারিতে ৫০ ফুট × ২০ ফুট করে একটি শস্যগোলা পাওয়া গেছে। শস্যগোলার সংলগ্ন কুটীরগুলিতে সম্ভবত মজুর শ্রেণির মানুষ বাস করত। হুইলার শস্যগোলার উপস্থিতি দেখে বলেছেন- “সিন্ধু নগরের অধিবাসীরা ছিল 1 বাণিজ্যজীবী”। ব্যাসাম শস্যগোলাগুলিকে আপদকালীন 'রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক'র সাথে তুলনা করেছেন। ৩. স্নানাগার ঃ হরপ্পার মানুষের সৌখিনতা ও স্বাস্থ্যসচেতনার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন ছিল গণস্নানাগারে। প্রসঙ্গত মহেঞ্জোদাড়াতো আবিষ্কৃত Great Bath-র উল্লেখ করা যায়। এতে ঋতু অনুযায়ী জল ভরার ব্যবস্থা ছিল। জলাশয়টিতে ওঠানামার জন্য ছিল সিঁড়ি। বাইরের একটি কুয়ো থেকে জল ভরার ব্যবস্থা ছিল। আর অন্য নালার মাধ্যমে নোংরা জল বের করে দেওয়া হত। স্নানাগারটির আয়তন ছিল ৩৯ ফুট × ২৩ ফুট × ৮ ফুট। স্নানাগারের চারপাশে ছোটো ছোটো ঘর ছিল। কেউ কেউ মনে করেন, স্নানাগারটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত এবং ঘরগুলি পোষাক পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত। অনেকে মনে করেন যে, স্নানাগারটি অভিজাতরা আধুনিক সুইমিং পুলের মত ব্যবহার করত এবং ঘরগুলি অনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত।


৪. আধুনিক ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার ঃ হরপ্পা সভ্যতার উন্নত নগরকেন্দ্রিকতার পরিচয় পাওয়া যায় চানহুদাড়োতে আবিষ্কৃত লিপস্টিক, নেলপালিশ, ভ্যানিটি ব্যাগের নিদর্শন থেকে। আধুনিক শহুরে মেয়েদের মতো হরপ্পার মেয়েরা ঐ ধরণের পণ্য ব্যবহার করার এক নাগরিক বুর্জোয়া সংস্কৃতির ছাপ ফুটে ওঠে।


৫. উন্নত পৌর ব্যবস্থা ঃ হরপ্পা সভ্যতার উন্নত সুশৃঙ্খল নগর পরিকল্পনা থেকে পণ্ডিতরা অনুমান করেন নিশ্চয় সেখানে একটি পৌর শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ঐতিহাসিক ব্যাসাম বলেছেন, মধ্যবিত্ত নাগরিক সম্প্রদায় পৌর প্রশাসন পরিচালনা করত। ঐতিহাসিক হুইলার বলেছেন যে, কোনে 'পুরোহিত রাজা' পৌর প্রশাসন পরিচালনা করতেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, নগরগুলি বনিক সংঘ বা গিল্ড ছারা শাসিত হতো।উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টতর হয়, হরপ্পা সভ্যতায় শুধু একটি উন্নত নগর পরিকল্পনাই ছিল না একটি আধুনিক নাগরিক সংস্কৃতিও বর্তমান ছিল। এই কারণে হরপ্পা সভ্যতাকে নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা বলা হয়। পরবর্তীকালের আবিষ্কৃত স্তরগুলিতে নাগরিক শৃঙ্খলার অবনতি এবং নাগরিকদের রক্ষনশীলতা ফুটে ওঠে, যা একদা উন্নত বিজ্ঞানভিত্তিক নগরগুলির অবক্ষয় ঘটায়।


(৫ নং দিলে বোল্ড অংশ। ১০ নং দিলে পুরো উত্তর।)

হরপ্পা সভ্যতার বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 হরপ্পা সভ্যতার বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো

হরমা সভ্যতার প্রথম সাধারণ বৈশিষ্ট্য, এই সভ্যতা ছিল নদীমাতৃক। অন্যান্য প্রাচীন নদীমাতৃক সভ্যতার মতই হরপ্পা সভ্যতাও নদীমাতৃক ছিল এবং এর ধাত্রী ছিল সিন্ধু নদ ও তার উপনদী সমূহ। হরমা শহরের অবস্থান ছিল ইরাবতী (রাভি) নদীর তীরে আর মহেঞ্জোদাড়োর নিম্ন সিন্ধু উপত্যকায় অবস্থিত ছিল। ডি. ডি. কোশাম্বী মন্তব্য করেছেন, মরু অঞ্চলে জঙ্গল কাটার অসুবিধা ছিল না। উপরন্তু এই অঞ্চলের নদীগুলি সভ্যতা বিকাশের সহায়ক হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার মত মরু অঞ্চলে নদী অববাহিকায় হরপ্পা সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।


হরপ্পা সভ্যতার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য বলে কেউ কেউ এর প্রাগৈতিহাসিক (প্রাক-লিখন যুগ) চরিত্রকে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু আধুনিক গবেষকগণ এই মত মানতে রাজী নন। কারণ হরপ্পা সভ্যতার কেন্দ্রগুলি থেকে বহু চিত্রলিপি সংবলিত সীলমোহর ও মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে। হরপ্পা লিপির পাঠোদ্ধার না হওয়ায় আধুনিক গবেষকগণ এই সভ্যতাকে 'প্রায়-ঐতিহাসিক সভ্যতা" বলে চিহ্নিত করেছেন।


হরপ্পা সভ্যতার তৃতীয় বৈশিষ্ট্য এই সভ্যতা হল তাম্রাশ্মীয় সভ্যতা। হরপ্পা সভ্যতা এমন একটি যুগের সভ্যতা যখন বিভিন্ন হাতিয়ার বা জিনিসপত্র তৈরির কাজে পাথরের ব্যবহার অব্যবহৃত রয়েছে, কিন্তু তার পাশে লোহা ব্যতীত, অন্যান্য ধাতুর, বিশেষতঃ তামার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তবে তামার বিশেষ ব্যবহারই শুধুমাত্র তাম্রাশ্মীয় সভ্যতার নিদর্শন নয়। কোর্টদিজির অপরিণত আদি-তাম্রাশ্মীয় সংস্কৃতিতে বলা যায় আদি-হরপ্পা সংস্কৃতি। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োর মত পরিণত হরপ্পা সভ্যতার দুই প্রধান কেন্দ্রে আদি তাম্রাশ্মীয় সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।


হরপ্পা সভ্যতার চতুর্থ বৈশিষ্ট্য এই সভ্যতার নগরকেন্দ্রিকতা। এই সভ্যতার পরিমণ্ডলে যেমন


হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো, লোথাল আর কালিবঙ্গানের মতো বৃহৎ নগর ছাড়াও বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগরের


অস্তিত্ব ছিল। এর বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, জলসরবরাহ ব্যবস্থা, পয়ঃপ্রনালী, স্নানাগার, শস্যাগার


ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল সুপরিকল্পিত নগর। বাড়িগুলি ছিল ইটের তৈরি, সুপরিকল্পিত।


প্রতিটি বড়ো বড়ো বাড়িতেই সুন্দর বাঁধানো উঠোন, কুয়ো, স্নানাগার ও শৌচাগার লক্ষ করা


যায়। জল নিকাশী ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে নাগরিকগণ


যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিল। হরপ্পা সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর বিশাল ব্যাপ্তি। এর বিস্তৃতি সিন্ধু উপতাকা কিংবা হরপ্পা অঞ্চল অতিক্রম করে বর্তমান ভারতের একটি বৃহৎ অংশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্থান পরিব্যাপ্ত ছিল। এই সভ্যতার প্রধান নগরগুলি হল পাকিস্তানের অন্তর্গত মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা। এবং ভারতে অবস্থিত কালিবঙ্গান ও লোথাল।


হরপ্পা সভ্যতা ছিল নাগরিক বুর্জোয়া ও বাণিজ্যিক সমাজের সভ্যতা। নগরের চারপাশের গ্রামগুলির মানুষ ধান উৎপাদনে নিযুক্ত থাকত। নগরের অধিবাসীরা সুমের, মিশর প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করত। বহিবাণিজ্যই ছিল হরপ্পা সভ্যতার মূল অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি। বাণিজ্যই। হরপ্পা সভ্যতাকে বিশিষ্ট নাগরিক চরিত্র দান করেছিল।23


হরপ্পা সভ্যতার কেন্দ্রগুলিতে লিখন-প্রনালীর ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এর থেকে বোঝা যায় সমাজে লেখাপড়ার প্রচলন ছিল ও তার জন্য সম্ভবত শিক্ষায়তনও ছিল। মাহেঞ্জোদাে হরপ্পা, কালিবঙ্গান ইত্যাদি স্থানে নগরনির্মাণ রীতি ও বিন্যাসের ঐক্য এবং ওজন ও পরিমাণ ব্যবস্থা এর প্রমাণ দেয়।


খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০-১৭৫০ অব্দ পর্যন্ত হরপ্পা সভ্যতা স্থায়ী হয়েছিল। এই সভ্যতা পূর্ণতা লাভ করে খ্রিস্টপূর্ব ২২০০-২০০০ অব্দের মধ্যে। যতদিন এই সভ্যতা টিকেছিল ততদিন এখানকার মানুষ একই ধরনের জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিল। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, সীলমোহর নির্মাণ পদ্ধতি, পোড়ামাটির ব্যবহার—সর্বত্র পরিলক্ষিত হয় এক অপরিবর্তনশীল ধারাবাহিকতা। যদিও এক শ্রেণির পণ্ডিত এই অপরিবর্তনশীল ধারাবাহিকতার কথা স্বীকার করেন না।


হরপ্পা সভ্যতা প্রাচীনত্ব ও বিস্তার Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 হরপ্পা সভ্যতাঃপ্রাচীনত্ব ও বিস্তার

 


 


 

হরপ্পা সভ্যতার প্রাচীনত্ব ও বিস্তৃতি আলোচনা কর। অথবাহরপ্পা সভ্যতার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের মত আলোচনা কর। 8


 

প্রাচীনত্ব : প্রাচীন বিশ্বের সভ্যতাগুলির মধ্যে হরপ্পা অনন্যতম। হরপ্পার সংস্কৃতির কাল নির্ণয় করা কঠিন। বিশেষত মহেঞ্জোদাড়োর ভূগর্ভস্থ কয়েকটি স্তর জলমগ্ন থাকায় এবিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া কষ্টকর। বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছাড়াও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে এবং মেসোপটেমিয়ার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে হরপ্পার কাল নির্ণয়ের একটি প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

জন মার্শাল প্রত্নতাত্ত্বিক খননের পর অনুমানের ভিত্তিতে মহেঞ্জোদাড়োর কাল নির্ণয় করেছেন। ৩২৫০-২৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। ড. গাড উরে প্রাপ্ত হরঙ্গীয় সীলের ভিত্তিতে হরপ্পার কাল নির্ণয় করেছেন ২৩৫০-১৭৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে। স্টুয়ার্ট পিগট ইরানীয় ও মেসোপটেমিয়ার স্বাক্ষ্যের ভিত্তিতে হরপ্পা সভ্যতার কালসীমা ২৫০০-১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ বলেছেন। মাটিমার হুইলার মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে হরক্ষীয় ধরণের সীলের ভিত্তিতে আবার হরপ্পার সাথে বর্হিদেশীয় যোগাযোগ স্থাপনের কালটি ২০০০-২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ বলেছেন। যদি ধরে নেওয়া হয় যেসিন্ধু সভ্যতা অন্ততঃ ৫০০ বছর ভ্রণ অবস্থায় ছিল তাহলে এই সভ্যতার জন্মলগ্ন দাঁড়ায় ২৩০০ =৫০০ = ২৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। মেসোপটেমিয়ার স্বাক্ষ্যের ভিত্তিতেই অলব্রাইট আবার সিদ্ধান্তে। এসেছেন ১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ হরপ্পা সভ্যতার পতন ঘটে।

 

সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা লোহার ব্যবহার জানত না। পণ্ডিতদের অনুমান খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ নাগাদ ভারতে লৌহযুগের সূচনা হয়। নিঃসন্দেহে হরপ্পা সভ্যতা এর পূর্ববর্তী।

 

আধুনিককালে রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে হরপ্পার কাল নির্ণয়ের একটি প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। কোয়েটা উপত্যকার নির্দশনের উপর ভিত্তি করে হরপ্পা সভ্যতার সময়কাল ২০০০- ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। কালিবঙ্গান ও কোটডিজিতে প্রাপ্ত প্রত্নবস্তুর উপর নির্ভর করে বলা হয় হরপ্পা সভ্যতা ২১৫০-২১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে পরিণত রূপ ধারণ করে। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে টাটা ইনস্টিটিউট অফ্ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের ড. ডি. পি. অগ্রবাল সিন্ধু সভ্যতার সমগ্র সময়কালকে ২৩০০-১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্তকে স্বীকার করেছেন।

 


 

বিস্তৃতি : ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান পাকিস্তানের লারকানা জেলার সিন্ধু নদের পশ্চিম তীরে মহেঞ্জোদাড়ো নগরীর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন। একই বছরে দয়ারাম সাহানী পাঞ্জাবের মন্টেগোমারি জেলার ইরাবতী নদীর পূর্ব উপকূলে হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিস্কার করেন। জন মার্শাল (১৯৩০)মাটিমার হুলার (১৯৪৭) এবং গর্ডন চাইল্ড (১৯৫৪) আরব সাগরের তীর থেকে হাজার মাইলের ব্যবধানের মধ্যে হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার করেন।

 

অবিভক্ত পাঞ্জাবের অধিকাংশ অঞ্চলহরিয়ানাউত্তর রাজস্থানউত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিন বেলুচিস্তানে হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। মূলত এটি ছিল সমতলের সংস্কৃতি। তবে মান্ডা (জন্মু ও কাশ্মীর)রূপার ও চন্ডীগড় (পাঞ্জাব) প্রভৃতি নিম্ন হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল। ভারতে হরপ্পা সভ্যতার ২৬৯টি প্রত্নকেন্দ্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলি হল পাঞ্জাব (৩৫) রাজস্থান (২৮)হরিয়ানা (৪৪)উত্তরপ্রদেশ (৩১) এবং গুজরাট (১৩১)।

 

মাটিমার হুইলার আরব সাগরের তীর থেকে হাজার মাইল ব্যবধানের মধ্যে অন্তত ৩৭০ টি জায়গায় হরপ্পার নিদর্শন প্রাপ্তির কথা বলেন। গর্ডন চাইল্ড এই সভ্যতার আরো বিস্তৃতির কথা বলেছেন। সম্প্রতি বেলুচিস্তানের মাকরাণ উপকূলে সুতকাগেনদার প্রত্নকেন্দ্রটি হরপ্পা সংস্কৃতির স্বাক্ষ্য দেয়। সিন্ধু ও পশ্চিম পাঞ্জাব ছাড়াও ভারতের যেসব এলাকায় হরপ্পা সভ্যতার স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া গেছে তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল রাজস্থানের কালিবঙ্গানগুজরাটের লোথালধোলাভিরা ও দেশলপারশতদ্রুর তীরে রূপারদিল্লীর কাছে মীরাট জেলার হিন নদীর তীরে অবস্থিত আলমগীরপুর (উত্তরপ্রদেশ)হরিয়ানার বানওয়ালি ও মিটাথল প্রভৃতি। উত্তর-পূর্ব আফগানিস্থানে অক্ষ নদীর তীরে অবস্থিত শোরটুগাই হরপ্পা সভ্যতার একটি বহিস্থ ঘাঁটি ছিল।

 

হরপ্পা সভ্যতার ভৌগলিক পরিধির যে পরিচয় পাওয়া যায় তা পূর্বে আলমগীরপুর থেকে। পশ্চিম সুতকাগেনদার এবং আফগানিস্থানের শোরটু গাই থেকে দক্ষিণে গোদাবরী উপত্যকার দহিমাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পূর্ব-পশ্চিমে এর বাপ্তি ছিল ১১০০ কি.মি. এবং উত্তর-দক্ষিণে ১৬০০ কি.মি.।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ: প্যালিওলিথিক, মেসোলিথিক এবং নিওলিথিক সংস্কৃতি Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 প্রাগৈতিহাসিক যুগ: প্যালিওলিথিকমেসোলিথিক এবং  নিওলিথিক সংস্কৃতি

 

ভূমিকা :

 

প্যালিওলিথিকমেসোলিথিক এবং নিওলিথিক যুগ সহ প্রাগৈতিহাসিক যুগগুলি মানব ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক চিহ্নিত করে। এই যুগে পাথরের সরঞ্জাম এবং যাযাবর জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে স্থায়ী কৃষি এবং উন্নত সমাজ পর্যন্ত মানব সংস্কৃতির অসাধারণ বিবর্তন ঘটেছিল। এই নিবন্ধেআমরা নিওলিথিক সংস্কৃতির উপর বিশেষ জোর দিয়ে এই যুগগুলির মধ্য দিয়ে একটি আকর্ষণীয় যাত্রা করবকীভাবে প্রাথমিক মানুষগুলি তাদের জীবনযাত্রাকে অভিযোজিতউদ্ভাবন এবং রূপান্তরিত করেছিল তা অন্বেষণ করব।

 

1. প্যালিওলিথিক সংস্কৃতি:

 

প্যালিওলিথিক যুগযা ওল্ড প্রস্তর যুগ নামেও পরিচিতমানব ইতিহাসের প্রাচীনতম সময়প্রায় ২.৫ মিলিয়ন বছর আগে থেকে প্রায় ১০,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়েআমাদের পূর্বপুরুষরা শিকারী-সংগ্রাহক ছিলেনবেঁচে থাকার জন্য শিকারমাছ ধরা এবং শিকারের উপর নির্ভর করতেন।

 

প্যালিওলিথিক সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্য:

 

পাথরের সরঞ্জাম: প্যালিওলিথিক মানুষ শিকার এবং কাটার জন্য প্রাথমিক পাথরের সরঞ্জাম তৈরি করেছিল। হ্যান্ডেক্স এবং বর্শাগুলির মতো এই সরঞ্জামগুলি তাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য ছিল এবং তাদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসাবে কাজ করেছিল।

 

যাযাবর জীবনধারা: এই যুগেমানুষ যাযাবর ছিলখাদ্য এবং সম্পদের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তাদের জীবন প্রকৃতির ছন্দের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল।

 

গুহা শিল্প: প্যালিওলিথিক সংস্কৃতির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির মধ্যে একটি হ'ল ল্যাসকাক্স এবং আলতামিরার মতো জায়গায় আবিষ্কৃত গুহা শিল্প। গুহার দেয়ালে এই চমকপ্রদ চিত্রগুলি প্রাণী এবং শিকারের দৃশ্যগুলি চিত্রিত করেপ্রাথমিক মানব বিশ্বাস এবং সৃজনশীলতার অন্তর্দৃষ্টি সরবরাহ করে।

 

2. মেসোলিথিক সংস্কৃতি :

 

মেসোলিথিক যুগযা মধ্য প্রস্তর যুগ নামেও পরিচিতপ্যালিওলিথিককে অনুসরণ করে এবং প্রায় 10,000 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 8,000 খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এই সময়টি মানব ইতিহাসের একটি ক্রান্তিকালীন পর্যায় চিহ্নিত করেছিল কারণ সমাজগুলি পরিবর্তিত পরিবেশগত অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছিল।

 

মেসোলিথিক সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্য:

 

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি: মেসোলিথিক লোকেরা ছোট ব্লেড এবং তীরের তীরসহ আরও অত্যাধুনিক পাথরের সরঞ্জাম বিকাশ করেছিলযা তাদের শিকার এবং সংগ্রহের ক্ষমতা উন্নত করেছিল।

 

আধা-যাযাবর জীবনধারা: এখনও চলমান থাকাকালীনমেসোলিথিক সমাজগুলি কিছু অঞ্চলে বসতি স্থাপনঅস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি এবং মৌসুমী সম্পদগুলিতে মনোনিবেশ করার লক্ষণ দেখিয়েছিল।

 

প্রাণীদের গৃহপালিতকরণ: কিছু সম্প্রদায় কুকুরের মতো প্রাণীদের গৃহপালিত করতে শুরু করেযা কৃষির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং জীবনযাত্রার আরও স্থিতিশীল উপায় চিহ্নিত করে।

 

নিওলিথিক সংস্কৃতি:

 

নিওলিথিক যুগবা নতুন প্রস্তর যুগমানব ইতিহাসে একটি স্মরণীয় পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি প্রায় ৮,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শুরু হয়েছিল এবং অঞ্চলের উপর নির্ভর করে হাজার হাজার বছর ধরে অব্যাহত ছিল। এই সময়টি কৃষিপশুপালন এবং স্থায়ী বসতিগুলির বিকাশ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

 

নিওলিথিক সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্য:

 

কৃষি: নিওলিথিক কৃষি বিপ্লব মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নগুলির মধ্যে একটি। লোকেরা গমবার্লিধানের মতো ফসল এবং গরুভেড়া এবং ছাগলের মতো গৃহপালিত প্রাণী চাষ শুরু করে। শিকার এবং সংগ্রহ থেকে কৃষিতে এই স্থানান্তর খাদ্য উদ্বৃত্ত এবং স্থায়ী বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়।

 

স্থায়ী বসতি: কৃষির আবির্ভাবের সাথে সাথে লোকেরা স্থায়ী গ্রাম এবং শহর প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই বসতিগুলিতে আরও উল্লেখযোগ্য এবং অত্যাধুনিক বাসস্থান ছিলযার ফলে প্রাথমিক সভ্যতার উত্থান হয়েছিল।

 

মৃৎশিল্প ও বস্ত্র: নিওলিথিক সমাজগুলি সংরক্ষণ এবং রান্নার জন্য মৃৎশিল্পের বিকাশ করেছিলযা কারুশিল্পের অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে। টেক্সটাইল তৈরিযেমন বোনা কাপড়প্রসারিত পোশাকবিকল্প এবং প্রযুক্তি।

 

সামাজিক সংগঠন: সমাজগুলি বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের শাসন এবং সংগঠনের ব্যবস্থাপ্রয়োজন ছিল। নিওলিথিক সংস্কৃতিতে প্রায়শই প্রধান বা নেতা ছিলেন যারা সম্প্রদায়ের ক্রিয়াকলাপবাণিজ্য এবং সম্পদ পরিচালনার তত্ত্বাবধান করতেন।

 

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি: নিওলিথিক মানুষ প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেযার মধ্যে আরও পরিমার্জিত পাথরের সরঞ্জামকৃষির জন্য লাঙ্গলের ব্যবহার এবং তামা এবং ব্রোঞ্জের সরঞ্জাম এবং অলঙ্কারগুলির জন্য ধাতুবিদ্যার বিকাশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

ধর্ম এবং বিশ্বাস: নিওলিথিক সংস্কৃতিগুলি আধ্যাত্মিকতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের প্রাচীনতম রূপগুলি প্রদর্শন করেছিল। তারা স্টোনহেঞ্জের মতো মেগালিথিক কাঠামো তৈরি করেছিলযা জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং ধর্মীয় তাৎপর্য ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।

 

উপসংহার :

 

প্যালিওলিথিকমেসোলিথিক এবং নিওলিথিক সংস্কৃতিগুলি যাযাবর শিকারী-সংগ্রাহক থেকে বসতি স্থাপনকারী কৃষক এবং কারিগরদের মধ্যে প্রাথমিক মানুষের অসাধারণ যাত্রার প্রতিনিধিত্ব করে। নিওলিথিক যুগবিশেষতমানব ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে দাঁড়িয়ে আছেযা কৃষিস্থায়ী বসতিপ্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জটিল সমাজের সূচনা দ্বারা চিহ্নিত। এই প্রাগৈতিহাসিক যুগগুলি অধ্যয়ন করা কেবল আমাদের সুদূর অতীতের অন্তর্দৃষ্টি সরবরাহ করে না বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের স্থিতিস্থাপকতাঅভিযোজনযোগ্যতা এবং উদ্ভাবনকেও তুলে ধরেযা আগামী প্রজন্মের জন্য মানব সভ্যতার গতিপথকে আকার দেয়।


সময়, স্থান, পরিধি এবং উত্সের ভারতীয় ধারণাগুলি আলোচনা কর। Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 সময়স্থানপরিধি এবং উত্সের ভারতীয় ধারণাগুলি আলোচনা কর।

 

ভূমিকা :

 

ভারততার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সাথেসময়স্থানসুযোগ এবং জ্ঞানের উত্স সম্পর্কে অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এই ধারণাগুলি ভারতীয় জীবনযাত্রা এবং চিন্তাভাবনা বোঝার জন্য অবিচ্ছেদ্য। এই নিবন্ধেআমরা অন্বেষণ করব যে ভারতীয়রা কীভাবে সময়কে চক্রীয় হিসাবেস্থানকে আন্তঃসংযুক্ত হিসাবেসুযোগকে সামগ্রিক হিসাবে এবং জ্ঞানের উত্সগুলিকে বৈচিত্র্যময় হিসাবে বিবেচনা করে। এই যাত্রা আমাদের ভারতীয় দর্শনের গভীরতা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।

 

১. সময় সম্পর্কে ভারতীয় ধারণা:

 

ভারতেসময়কে প্রায়শই রৈখিক নয় বরং চক্রীয় হিসাবে দেখা হয়যা সময়ের পশ্চিমা ধারণা থেকে আলাদা। হিন্দুরা মহাজাগতিক যুগের প্রতিনিধিত্বকারী "যুগ" ধারণায় বিশ্বাস করে। এই যুগগুলির মধ্যে রয়েছে সত্য যুগত্রেতা যুগদ্বাপারা যুগ এবং কলি যুগপ্রতিটি ধারাবাহিকভাবে সংক্ষিপ্ত এবং আধ্যাত্মিকভাবে কম বিশুদ্ধ। এই চক্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি সমস্ত জিনিসের অস্থায়িত্ব এবং অনন্ত পুনরাবৃত্তির ধারণাকে তুলে ধরে।

 

ভারতীয় জীবন এবং উত্সবগুলি প্রাকৃতিক ছন্দের সাথে সংযুক্তযেমন ঋতু পরিবর্তন এবং স্বর্গীয় আন্দোলনব্যক্তি এবং মহাজাগতিক ক্রমের মধ্যে সংযোগের উপর জোর দেয়। সময়ের এই চক্রাকার উপলব্ধি মানুষকে প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিতে এবং "সামসার" নামে পরিচিত জন্ম ও পুনর্জন্মের ক্রমাগত চক্রকে স্বীকৃতি দিতে উত্সাহিত করে।

 

২. মহাকাশ সম্পর্কে ভারতীয় ধারণা:

 

মহাকাশের ভারতীয় ধারণাটি আন্তঃসংযোগের ধারণার মধ্যে রয়েছে। যদিও শারীরিক সীমানা বিদ্যমানসেখানে "ব্রহ্ম" নামে একটি সর্বব্যাপীসর্বব্যাপী শক্তিতে বিশ্বাস রয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোঝা যায় যে মহাকাশতার চূড়ান্ত অর্থেঅসীম এবং সীমাহীন।

 

"ধর্ম"কর্তব্য বা ধার্মিক পথের ধারণামহাকাশ সম্পর্কে ভারতীয় বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ব্যক্তি সমাজের মধ্যে একটি অনন্য স্থান দখল করেতাদের ধর্ম পালনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সম্প্রীতিতে অবদান রাখে। এই আন্তঃসংযোগ ভারতীয় দর্শনে মহাকাশের প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

 

৩. ইন্ডিয়ান কনসেপ্ট অফ স্কোপ :

 

ভারতীয় চিন্তাধারা একটি বিস্তৃত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বদৃষ্টিকে আলিঙ্গন করে। বেদান্তন্যায় এবং যোগের মতো দার্শনিক স্কুলগুলি অধিবিদ্যা এবং জ্ঞানতত্ত্ব থেকে নীতিশাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিকতা পর্যন্ত বিস্তৃত বিষয় অন্বেষণ করে। এই বৈচিত্র্যময় চিন্তাধারা মানুষের অস্তিত্বের জটিলতা এবং বিস্তৃত বোঝার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে।

 

সুযোগের ভারতীয় ধারণা আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি এবং জ্ঞানলাভ পর্যন্ত বিস্তৃত। "মোক্ষ" বা মুক্তিজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এটি পরামর্শ দেয় যে মানুষের অস্তিত্ব বস্তুগত জগতের চেয়ে বেশি কিছু কে অন্তর্ভুক্ত করেআধ্যাত্মিক বিবর্তন এবং আত্ম-উপলব্ধিকে আমাদের পরিধির একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে জোর দেয়।

 

৪. ইন্ডিয়ান কনসেপ্ট অফ সোর্স:

 

ভারতীয় জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা বিভিন্ন উত্স থেকে উদ্ভূত হয়:

 

ক. প্রাচীন গ্রন্থ: বেদউপনিষদভগবদ গীতা এবং মহাভারত ও রামায়ণের মতো মহাকাব্যগুলির মতো পবিত্র গ্রন্থগুলি ভারতে জ্ঞানদর্শন এবং আধ্যাত্মিকতার মৌলিক উত্স। তারা নীতিশাস্ত্রনৈতিকতা এবং সত্যের অনুসন্ধানসম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

 

খ. মৌখিক ঐতিহ্য: ভারতে জ্ঞানের মৌখিক প্রেরণের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছেজ্ঞান এবং গল্পগুলি মৌখিকভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। যোগব্যায়াম এবং ধ্যানের মতো অনুশীলনের জন্য এই মৌখিক ঐতিহ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

গ. আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা: ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা এবং ধ্যান ভারতীয় দর্শনে একটি বিশেষ স্থান ধারণ করে। অভ্যন্তরীণ চেতনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা গভীর জ্ঞান এবং আত্ম-উপলব্ধির উত্স হিসাবে অত্যন্ত মূল্যবান।

 

ঘ. গুরু-শিষ্য সম্পর্ক: একজন গুরু (আধ্যাত্মিক শিক্ষক) এবং একজন শিষ্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত সম্মানিত। গুরুরা শিষ্যদের জ্ঞানদিকনির্দেশনা এবং প্রজ্ঞা প্রদান করেনপ্রায়শই একে অপরের সাথে। এই সম্পর্ক আধ্যাত্মিক এবং দার্শনিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স।

 

উপসংহার :

 

উপসংহারেসময়স্থানপরিধি এবং উত্স সম্পর্কে ভারতীয় ধারণাগুলি ভারতীয় দর্শন এবং সংস্কৃতির গভীরতা এবং বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে। এই ধারণাগুলি বোঝার ফলে আমরা সহস্রাব্দ ধরে ভারতীয় সভ্যতাকে আকার দেওয়া অনন্য দৃষ্টিভঙ্গিগুলি উপলব্ধি করতে পারি। এটি আমাদের আন্তঃসংযোগের গুরুত্বসময়ের চক্রাকার প্রকৃতি এবং জীবন ও জ্ঞানের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই ধারণাগুলি ভারত এবং সারা বিশ্বের মানুষকে প্রভাবিত এবং অনুপ্রাণিত করে চলেছেমানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিকে সমৃদ্ধ করে।


ভারতের মৌলিক একতা: ভারতের ধারণা বলতে কি বোঝ? Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 ভারতের মৌলিক একতা: ভারতের ধারণা বলতে কি বোঝ?

 

ভূমিকা :

 

ভারতপ্রায়শই তার স্থানীয় ভাষায় "ভারত" হিসাবে পরিচিতঅবিশ্বাস্য বৈচিত্র্যের একটি দেশভাষাধর্মসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের একটি টেপস্ট্রি নিয়ে গর্ব করে। এই অসাধারণ বৈচিত্র্য সত্ত্বেওএকটি গভীর ধারণা রয়েছে যা এই জাতির ঐক্যকে সমর্থন করেএটি বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে প্রাণবন্ত সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি করে তোলে। এই ধারণাটি ইতিহাসভূগোলসংস্কৃতি এবং অভিন্ন মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছেযা ভারতের মৌলিক ঐক্য গঠন করে।

 

ঐতিহাসিক শিকড় :

 

ভারতের ঐক্যের ধারণাটি হাজার হাজার বছর আগের। ঐতিহাসিকভাবেভারতীয় উপমহাদেশে মৌর্য ও গুপ্ত থেকে শুরু করে মুঘল ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও রাজবংশের উত্থান ও পতন হয়েছে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলির মধ্যেও ভারতীয় সভ্যতার একটি ধারাবাহিকতা রয়ে গেছে যা এই সীমানাঅতিক্রম করেছে। বেদউপনিষদ এবং মহাভারত ও রামায়ণের মতো মহাকাব্যগুলির মতো প্রাচীন গ্রন্থগুলি একটি অভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং দার্শনিক ভিত্তি সরবরাহ করেছিল।

 

অধিকন্তুসমগ্র উপমহাদেশকে উল্লেখ করে "ভারতবর্ষ" বা "আর্যবর্ত" ধারণাটি প্রাচীন গ্রন্থ এবং সাহিত্যে প্রচলিত ছিল। এটি ভূখণ্ড জুড়ে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ভৌগোলিক ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক আন্তঃসংযোগের অনুভূতির উপর জোর দিয়েছিল যাকে আমরা এখন ভারত বলি।

 

ভৌগোলিক একতা :

 

ভারতের ভৌগোলিক ঐক্য অসাধারণ। উত্তরে হিমালয়ের প্রাকৃতিক সীমানা এবং দক্ষিণে বিস্তৃত মহাসাগরঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় উপমহাদেশকে আশ্রয় দিয়েছেযার ফলে এটি তার স্বতন্ত্র চরিত্র বিকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। গঙ্গাযমুনা এবং ব্রহ্মপুত্রের মতো নদীগুলি তাদের তীরে সমৃদ্ধ সভ্যতাকে লালন করেছে। পশ্চিমের থার মরুভূমি থেকে উর্বর গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত ভারতের বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্য গুলি বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার বিবর্তনে অবদান রেখেছেতবুও এগুলি সমস্ত একক ভৌগোলিক সত্তার মধ্যে সংযুক্ত।

 

সাংস্কৃতিক বহুত্ব :

 

ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তার ঐক্যের প্রমাণ। দেশটি ভাষাধর্মউত্সবশিল্পফর্ম এবং ঐতিহ্যের একটি মোজাইক। হিন্দুমুসলিমখ্রিস্টানশিখবৌদ্ধজৈন এবং অন্যান্য বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের বিশ্বাস এবং ঐতিহ্য উদযাপন করে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব অনন্য রীতিনীতিরন্ধনপ্রণালী এবং শিল্পফর্ম রয়েছেতবুও অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক অনুশীলনের অন্তর্নিহিত সূত্র রয়েছে যা জাতিকে একত্রিত করে।

 

"বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা" ধারণাটি ভারতীয় মূল্যবোধের মধ্যে গভীরভাবে জড়িত। এটি এক জাতির অংশ হওয়ার সাধারণতা স্বীকার করার সময় পার্থক্যগুলি স্বীকার করে এবং উদযাপন করে। দীপাবলিঈদক্রিসমাস এবং হোলির মতো উত্সবগুলি বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা সমান উত্সাহের সাথে উদযাপন করেঐক্যের অনুভূতিকে উত্সাহিত করে।

 

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধান :

 

ভারতের ঐক্য তার গণতান্ত্রিক নীতি এবং একটি প্রগতিশীল সংবিধান দ্বারা আরও শক্তিশালী হয়। ১৯৫০ সালে গৃহীত ভারতীয় সংবিধানে সমস্ত নাগরিকের জন্য সমতাস্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের মূল্যবোধকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছেতাদের পটভূমি নির্বিশেষে। এটি ধর্মনিরপেক্ষতাকে সমুন্নত রাখে এবং একটি বৈচিত্র্যময় সমাজের প্রচার করে যেখানে প্রতিটি ব্যক্তির তাদের ধর্ম অনুশীলনতাদের ভাষায় কথা বলার এবং তাদের সংস্কৃতি প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।

 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভারতের সমস্ত কোণ থেকে প্রতিনিধিত্ব এবং অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়এটি নিশ্চিত করে যে এর জনগণের বিভিন্ন কণ্ঠস্বর এবং উদ্বেগগুলি শোনা এবং সমাধান করা হয়। গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি এই অঙ্গীকার নাগরিকদের মধ্যে ঐক্যের অনুভূতিকে শক্তিশালী করে।

 

অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা :

 

অর্থনৈতিকভাবেভারতের রাজ্যগুলি পরস্পর নির্ভরশীলযা প্রবৃদ্ধির একটি সম্মিলিত ইঞ্জিন গঠন করে। দেশের ফেডারেল কাঠামো অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের বিকেন্দ্রীকরণের অনুমতি দেয়জাতির সামগ্রিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার সময় আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রচার করে।

 

উপসংহার :

 

উপসংহারেভারত বা ভারতের ধারণাটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাভৌগোলিক ঐক্যসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যগণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি পুরানো এবং নতুনঐতিহ্যগত এবং আধুনিকের একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ মিশ্রণএবং এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য পাওয়া যায়যা ভারতকে বিশ্ব মঞ্চে একটি অনন্য এবং স্থায়ী সভ্যতায় পরিণত করে।

 

SEMESTER 1

 দেওয়াল পত্রিকা পদধ্বনির ২য় সংখ্যা উদ্বোধন হল ১২ই ডিসেম্বর, ২০২৪। এবারের দেওয়াল পত্রিকার বিষয়বস্তু ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালী। এবারের সম্...