শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

হরপ্পা সভ্যতার বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 হরপ্পা সভ্যতার বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো

হরমা সভ্যতার প্রথম সাধারণ বৈশিষ্ট্য, এই সভ্যতা ছিল নদীমাতৃক। অন্যান্য প্রাচীন নদীমাতৃক সভ্যতার মতই হরপ্পা সভ্যতাও নদীমাতৃক ছিল এবং এর ধাত্রী ছিল সিন্ধু নদ ও তার উপনদী সমূহ। হরমা শহরের অবস্থান ছিল ইরাবতী (রাভি) নদীর তীরে আর মহেঞ্জোদাড়োর নিম্ন সিন্ধু উপত্যকায় অবস্থিত ছিল। ডি. ডি. কোশাম্বী মন্তব্য করেছেন, মরু অঞ্চলে জঙ্গল কাটার অসুবিধা ছিল না। উপরন্তু এই অঞ্চলের নদীগুলি সভ্যতা বিকাশের সহায়ক হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার মত মরু অঞ্চলে নদী অববাহিকায় হরপ্পা সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।


হরপ্পা সভ্যতার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য বলে কেউ কেউ এর প্রাগৈতিহাসিক (প্রাক-লিখন যুগ) চরিত্রকে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু আধুনিক গবেষকগণ এই মত মানতে রাজী নন। কারণ হরপ্পা সভ্যতার কেন্দ্রগুলি থেকে বহু চিত্রলিপি সংবলিত সীলমোহর ও মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে। হরপ্পা লিপির পাঠোদ্ধার না হওয়ায় আধুনিক গবেষকগণ এই সভ্যতাকে 'প্রায়-ঐতিহাসিক সভ্যতা" বলে চিহ্নিত করেছেন।


হরপ্পা সভ্যতার তৃতীয় বৈশিষ্ট্য এই সভ্যতা হল তাম্রাশ্মীয় সভ্যতা। হরপ্পা সভ্যতা এমন একটি যুগের সভ্যতা যখন বিভিন্ন হাতিয়ার বা জিনিসপত্র তৈরির কাজে পাথরের ব্যবহার অব্যবহৃত রয়েছে, কিন্তু তার পাশে লোহা ব্যতীত, অন্যান্য ধাতুর, বিশেষতঃ তামার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তবে তামার বিশেষ ব্যবহারই শুধুমাত্র তাম্রাশ্মীয় সভ্যতার নিদর্শন নয়। কোর্টদিজির অপরিণত আদি-তাম্রাশ্মীয় সংস্কৃতিতে বলা যায় আদি-হরপ্পা সংস্কৃতি। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োর মত পরিণত হরপ্পা সভ্যতার দুই প্রধান কেন্দ্রে আদি তাম্রাশ্মীয় সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।


হরপ্পা সভ্যতার চতুর্থ বৈশিষ্ট্য এই সভ্যতার নগরকেন্দ্রিকতা। এই সভ্যতার পরিমণ্ডলে যেমন


হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো, লোথাল আর কালিবঙ্গানের মতো বৃহৎ নগর ছাড়াও বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগরের


অস্তিত্ব ছিল। এর বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, জলসরবরাহ ব্যবস্থা, পয়ঃপ্রনালী, স্নানাগার, শস্যাগার


ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল সুপরিকল্পিত নগর। বাড়িগুলি ছিল ইটের তৈরি, সুপরিকল্পিত।


প্রতিটি বড়ো বড়ো বাড়িতেই সুন্দর বাঁধানো উঠোন, কুয়ো, স্নানাগার ও শৌচাগার লক্ষ করা


যায়। জল নিকাশী ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে নাগরিকগণ


যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিল। হরপ্পা সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর বিশাল ব্যাপ্তি। এর বিস্তৃতি সিন্ধু উপতাকা কিংবা হরপ্পা অঞ্চল অতিক্রম করে বর্তমান ভারতের একটি বৃহৎ অংশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্থান পরিব্যাপ্ত ছিল। এই সভ্যতার প্রধান নগরগুলি হল পাকিস্তানের অন্তর্গত মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা। এবং ভারতে অবস্থিত কালিবঙ্গান ও লোথাল।


হরপ্পা সভ্যতা ছিল নাগরিক বুর্জোয়া ও বাণিজ্যিক সমাজের সভ্যতা। নগরের চারপাশের গ্রামগুলির মানুষ ধান উৎপাদনে নিযুক্ত থাকত। নগরের অধিবাসীরা সুমের, মিশর প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করত। বহিবাণিজ্যই ছিল হরপ্পা সভ্যতার মূল অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি। বাণিজ্যই। হরপ্পা সভ্যতাকে বিশিষ্ট নাগরিক চরিত্র দান করেছিল।23


হরপ্পা সভ্যতার কেন্দ্রগুলিতে লিখন-প্রনালীর ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এর থেকে বোঝা যায় সমাজে লেখাপড়ার প্রচলন ছিল ও তার জন্য সম্ভবত শিক্ষায়তনও ছিল। মাহেঞ্জোদাে হরপ্পা, কালিবঙ্গান ইত্যাদি স্থানে নগরনির্মাণ রীতি ও বিন্যাসের ঐক্য এবং ওজন ও পরিমাণ ব্যবস্থা এর প্রমাণ দেয়।


খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০-১৭৫০ অব্দ পর্যন্ত হরপ্পা সভ্যতা স্থায়ী হয়েছিল। এই সভ্যতা পূর্ণতা লাভ করে খ্রিস্টপূর্ব ২২০০-২০০০ অব্দের মধ্যে। যতদিন এই সভ্যতা টিকেছিল ততদিন এখানকার মানুষ একই ধরনের জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিল। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, সীলমোহর নির্মাণ পদ্ধতি, পোড়ামাটির ব্যবহার—সর্বত্র পরিলক্ষিত হয় এক অপরিবর্তনশীল ধারাবাহিকতা। যদিও এক শ্রেণির পণ্ডিত এই অপরিবর্তনশীল ধারাবাহিকতার কথা স্বীকার করেন না।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

SEMESTER 1

 দেওয়াল পত্রিকা পদধ্বনির ২য় সংখ্যা উদ্বোধন হল ১২ই ডিসেম্বর, ২০২৪। এবারের দেওয়াল পত্রিকার বিষয়বস্তু ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালী। এবারের সম্...