রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩

সিন্ধুবাসীদের ধর্মবিশ্বাস কি ছিল? অথবা, হরপ্পার ধর্মীয় জীবন কিরূপ ছিল? Semester -1, Major, Paper- 1, History Hons Pass, Calcutta and Burdwan University

 সিন্ধুবাসীদের ধর্মবিশ্বাস কি ছিল? অথবা, হরপ্পার ধর্মীয় জীবন কিরূপ ছিল?




উত্তর -হরপ্পার ধর্মবিশ্বাস কি ছিল সে সম্পর্কে তথ্য খবই অপ্রতুল। কারণ সিন্ধলিপির পাঠ উদ্ধার হয়নি। এমনকি মহেঞ্জোদড়ো বা অন্য কোনো শহরে মন্দির বা কোনো দেবালয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


হরপ্পায় প্রাপ্ত সীলমোহরে একটি নারীমূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। অনুমান করা হয়, তিনি পৃথিবীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এই সীলমোহরের উপরের দিকে একটি নরবলির চিত্র রয়েছে। আবার সীলমোহরগুলিতে বিভিন্ন উদ্ভিদের ছবি পাওয়া গেছে। অনুমান করা হয় যে তারা শুধু গাছপালা নয়, পশুপক্ষীরও পূজা করত। একটি সীলমোহরে একজন পুরুষ দেবতার ছবি আবিষ্কৃত হয়েছে। এই পুরুষ দেবতার চারদিক পশু দ্বারা পরিবেষ্টিত। কেউ কেউ মনে করেন, ইনি পশুপতি শিব (Proto Shiva)। আবার সীলমোহরগুলিতে অসংখ্য লিঙ্গ জাতীয় প্রতীকের নিদর্শন পাওয়া গেছে। পোড়ামাটির মৃত্তিকার মূর্ত্তিগুলি থেকে অনুমান করা যায় যে, হররা সভ্যতায় মাতৃকা পূজা প্রাধান্য লাভ করেছিল। অধ্যাপক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেছেন, হরপ্পায় এমন একটি ঐতিহ্যের সৃষ্টি হয়েছিল যাকে আদিম তান্ত্রিক ঐতিহ্যের সাথে অভিন্ন বলে আখ্যা দেওয়া যেতে পারে।


স্যার জন মার্শাল প্রমুখ সিন্ধু ধর্মের কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করেছেন। যেমন— ১. লিঙ্গ উপাসনা ২. পশু উপাসনা ৩. সর্প উপাসনা ৪. বৃক্ষ উপাসনা। এই উপাসনা ব্যাতীত কতগুলি প্রতীক সিন্ধু উপত্যকায় ব্যবহার করা হয়। সিন্ধু ধর্মের ব্যবহৃত প্রধান প্রতীক হল- ১. পদ্ম ২. স্বস্তিকা ৩. চক্র ৪. স্তম্ভ ৫. ত্রিশূল।


সমাধি প্রথা ঃ হরপ্পা সভ্যতার মানুষ পরলোকে বিশ্বাস করত। মৃত্যুর পরও দেহ সমাধিস্থ করা হত। মূলত তিন ধরণের সমাধির প্রচলন ছিল – (১) আসবাব পত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রী সহ পূর্ণ সমাধি, (২) আংশিক সমাধি (৩) পাত্র সমাধি (দেহাবশেষের আধার)। সমাধিতে মৃতদেহ উত্তর-দক্ষিণে শায়িত রাখা হত। লোথালের কয়েকটি কবরখানায় একজোড়া কঙ্কালের অস্তিত্ব লক্ষ্য করে ব্রিজেৎ অলচিন ও রেমণ্ড অলচিন বলেছেন, হিন্দু সমাজের মতো সমাজে সতীদাহ  প্রচলিত ছিল বা স্বামীর সঙ্গে পাশাপাশি সমাধিস্থ করার প্রথা বলবৎ ছিল।

সিমেট্রি H কি? বা সিমেট্রি H সংস্কৃতি কি

উত্তর হরপ্পা সভ্যতার সর্বোচ্চ স্তরে যে কবরখানা আবিষ্কৃত হয়েছে তাকে সিমেট্রি H নামে অভিহিত করা হয়। এই সিমেট্রি H থেকে সিন্ধুর পরবর্তী সভ্যতাকে সিমেট্রি H সংস্কৃতি বলা হয়। এখানকার মানুষ নিম্নমানের বাড়িঘর এবং উচ্চমানের মৃৎপাত্র তৈরি করেছিল।


প্রশ্ন হরপ্পা সভ্যতায় ঘোটকের (ঘোড়া) ব্যবহার সম্পর্কে কি জানা যায় ?


উত্তর হরপ্পার অধিবাসীরা পশুপালনেও অভ্যস্ত ছিল। পশু তাদের দুটি বিশেষ কাজে লাগত। প্রথমতঃ খাদ্য হিসেবে, দ্বিতীয়তঃ মাল বহনের কাজে। মহেঞ্জোদারোর ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে ও পশ্চিম গুজরাটের সূরকোটডায় অশ্বের অস্থি আবিষ্কৃত হয়েছে। লোথালে পোড়া মাটির তৈরি একটি অশ্ব মূর্তি পাওয়া গেছে। সম্ভবত ২০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে সিন্ধু অঞ্চলে ঘোড়ার ব্যবহার প্রচলিত হয়। তবে সিন্ধুবাসীদের কাছে ঘোড়ার ব্যবহার খুব একটা জনপ্রিয় ছিল না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

SEMESTER 1

 দেওয়াল পত্রিকা পদধ্বনির ২য় সংখ্যা উদ্বোধন হল ১২ই ডিসেম্বর, ২০২৪। এবারের দেওয়াল পত্রিকার বিষয়বস্তু ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালী। এবারের সম্...